আচ্ছা, কেমন হতো অনলাইনে যদি এমন একজন ওয়ান-অন-ওয়ান মেন্টর পেতেন, যিনি শুধু গাইডই করতেন না, বরং আপনার পুরো মাইন্ডসেটটাই বদলে দিতেন?
আমি শাহরুখ, গত ১০ বছর ধরে ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে Fiverr, Upwork এবং USA-এর Astro Researcher-দের সাথে কাজ করছি। Fiverr-এ তিন হাজারের বেশি বিদেশি ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করার সুবাদে আমি এই পথের নানা উত্থান-পতন দেখেছি এবং শিখেছি কীভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। আমি আপনাকে এই সেক্টরে শুধু সফলতার গল্পই শোনাব না, ব্যর্থতার গল্প থেকেও শেখাবো।
আসুন, ব্যর্থ হওয়ার সফল গল্প শোনাই! 😎
গল্প ১: “সবকিছু শিখে” প্রোজেক্ট বানাবো
আমার পরিচিত এক ভাই সারাদিন কোডিং শেখে। সে আমাকে বলে, “আমি React জানি, MongoDB জানি। আমার WordPress ভালো লাগে না, এর চেয়ে মডার্ন জিনিস নিয়ে কাজ করছি।”
কিন্তু মূল সমস্যা হলো, সে কোনো কাজ পাচ্ছে না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার সেরা পাঁচটি প্রজেক্ট আমাকে দেখাও তো।” সে আমতা আমতা করে বললো, “ওগুলো তো কম্পিউটারে সেভ করে রেখেছি। এখন ভালো করে Python শিখছি, তারপর প্রজেক্ট বানাবো।”
ব্যর্থতার কারণ: শুধু শিখেই যাওয়া কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ বা প্রোজেক্ট না বানানো। নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য কোনো পোর্টফোলিও না থাকা।
গল্প ২: ভুল সময়ে ক্লায়েন্টের উত্তর দেওয়া
“Fiverr-এ আমার অনেক মেসেজ আসে, কিন্তু ক্লায়েন্ট কাজ দেয় না। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে তারপর সবার রিপ্লাই করি। এত কিছু পারা সত্ত্বেও আমার কাজ আসছে না।”
ব্যর্থতার কারণ: ক্লায়েন্টের টাইমজোন অনুযায়ী দ্রুত উত্তর না দেওয়া। আপনি যখন ঘুম থেকে উঠে উত্তর দিচ্ছেন, সেই ক্লায়েন্ট হয়তো অন্য দেশের কাউকে কাজ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে দ্রুত যোগাযোগই সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।
গল্প ৩: ভুল পদ্ধতিতে কাজের আবেদন
আরেকজন বলে, “আমি মার্কেটপ্লেসে কাজ পাচ্ছি না, কোল্ড মেইল করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।” আমি তার Fiverr প্রোফাইল দেখতে চাইলাম। প্রোফাইল মোটামুটি ঠিক থাকলেও গিগ রয়েছে মাত্র একটি।
জিজ্ঞেস করলাম, “কখন কোল্ড মেইল পাঠাও?” উত্তরে সে বললো, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই পাঠাই।” “কী লেখো মেইলে?” সে বললো, “Hi, I am Abul, my father’s name is Babul. I am a web developer. I am a hardworking person… I want to work with you… Thank you.”
ব্যর্থতার কারণ: মার্কেটপ্লেসে যথেষ্ট অ্যাকটিভ না থাকা (মাত্র একটি গিগ) এবং অত্যন্ত অপেশাদার ও অকার্যকর পদ্ধতিতে কোল্ড মেইল পাঠানো।
গল্প ৪: শুধু আইডিয়া আছে, অ্যাকশন নেই
এমন একজনের সাথে আমাদের সবারই পরিচয় আছে যিনি শুধু আইডিয়া নিয়ে কথা বলেন। তিনি প্রায়ই বলেন, “এটা করা যায়, একটা এজেন্সি দিয়ে দেওয়া যায়, একটা টিম বিল্ডিং করা যায়, ওইটা করলে তো এত হাজার ডলার চলে আসবে… আরও কত কী!”
একদিন তার সাথে বসে বললাম, “ঠিক আছে, চলুন তাহলে আমরা এবার অ্যাকশনে নামি। আপনার কাজ হলো এই এই জিনিসগুলো রেডি করা, আর ডেডলাইন হলো এত তারিখ।”
এরপর কী হলো? পরের ২-৩ দিন তার আর কোনো খবর নেই। আমি একটানা মেসেজ ও কল দিতে থাকলে তিনি বলেন, “আমি একটু ব্যস্ত আছি।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি আসলেই কষ্ট করে এই জিনিসগুলো তৈরি করতে চান?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, করতে তো চাই, কিন্তু এখন ব্যস্ত।”
ব্যর্থতার কারণ: বড় বড় পরিকল্পনা বা আইডিয়া শেয়ার করা সহজ, কিন্তু সেই আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যে পরিশ্রম, দায়বদ্ধতা এবং ধারাবাহিকতার প্রয়োজন, তার অভাব। এরা মূলত কাজ এড়িয়ে চলার জন্য “ব্যস্ততার” অজুহাত দিয়ে থাকেন।